উইন্ডোজ এক্সপির গতি বৃদ্ধি

উইন্ডোজের পূর্বের অনান্য অপারেটিং সিস্টেমের তুলনায় উইন্ডোজ এক্সপির গ্রাফিক্স অনেক উন্নত এবং এই অপারেটিং সিস্টেম অনেক বেশী যায়গা দখল করে ও বেশী র্যামও ব্যবহৃত হয়, ফলে র্যাম কম হলে এবং হার্ডডিক্সের যায়গা কম থাকলে কম্পিউটারে গতি কম হয়। উন্নত ও অতিরিক্ত অনেক সুবিধা থাকার ফলে অনেক সমস্যা ভোগ করতে হয়। কিন্তু সব উন্নত সুবিধাই কি আাপনার প্রয়োজন? আপনার প্রয়োজন অনুসারে আপনি আপনার এক্সপিকে বিভিন্ন ভাবে পরিবর্তন করে গতি বৃদ্ধি করতে পারেন। এমনই কিছু সুবিধা, অসুবিধা ও গতি বৃদ্ধির পথই দেখানো হলো।
ভার্চুয়াল মেমোরী বৃদ্ধি: মাল্টিটাস্কিং এর ব্যপক ব্যবহার হচ্ছে এখনকার সময়, সেই সাথে র্যাম বা মেমোরী বাড়াবার প্রয়োজনও। একই সাথে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম খুলে কাজ করা সময় বাচাঁনোর অন্যতম পথ। কিন্তু গতির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে নইলে সময় বাচাঁতে গিয়ে তা অপচয় হবে। আপনার কম্পিউটারের র্যাম কম হলেও বেশী করে ভার্চুয়াল মেমোরী বৃদ্ধি করে রাখতে পারেন, যা গতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এজন্য Control Panel থেকে System ওপেন করলে System Properties আসবে। এবার System Properties থেকে Advanced ট্যাবে ক্লিক করে Performance ফ্রেম থেকে Settings বাটনে ক্লিক করলে Performance Options উইন্ডো আসবে। এবার এখানে Advanced ট্যাবে ক্লিক করে নিচের Virtual Memory ফ্রেম থেকে Change বাটনে ক্লিক করে বেশী যায়গা থাকা ড্রাইভ সিলেক্ট করে Custom Size অপশন বাটন চেক করে Initial Size ও Maximum Size এ পর্যাপ্ত পরিমানের যায়গা (মেগাবাইট) লিখে করে Set বাটনে ক্লিক করে Ok করুন। চাইলে সব ড্রাইভেই তা করতে পারেন।
পারফরমেন্স বৃদ্ধি: উইন্ডোজ এক্সপি দেখতে পূর্বের সব অপারেটিং সিস্টেম থেকে অনেক আকর্শনীয় ফলে এর পারফরমেন্স কিছুটা হলেও কমবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনি চাইলে এই আকর্শনীয় গ্রাফিক্সকে কমিয়ে পারফরমেন্স বৃদ্ধি করতে পারেন। এজন্য Control Panel থেকে System ওপেন করুন। এবার System Properties থেকে Advanced ট্যাবে ক্লিক করে Performance ফ্রেম থেকে Settings বাটনে ক্লিক করলে Performance Options উইন্ডো আসবে এখানে Virtual Effects ট্যাবের Adjust for best performance অপশন বাটন সিলেক্ট করে Ok করুন। তহালে দেখবেন আপনার উইন্ডোজের সবকিছু অপারেটিং সিস্টেম ’৯৮ এর মত হয়ে গেছে কিন্তু গতি বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক গুণ এবং উইন্ডোজ এক্সপির সব ফিচারতো থাকছেই। এছাড়া আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাইলে Adjust for best appearance অপশন বাটন সিলেক্ট Ok করলেই হবে বা কিছুটা পরিবর্তন করতে চাইলে কাস্টম করতে পারেন।
সিস্টেম রিষ্টোর বন্ধ করা: সিস্টেম রিষ্টোরের সুবিধা আমরা কম বেশী সবাই জানি। হার্ডডিক্সের কোন ফাইল মুছে গেলে তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব এই সিস্টেম রিষ্টোরের মাধ্যমে। কিন্তু এজন্য আপনার সিস্টেম আপনার হার্ডডিক্স ড্রাইভের সর্বোচ্চ শতকরা ১২ ভাগ যায়গা দখল করে রাখে। আপনি সিস্টেম রিষ্টোর বন্ধ করে রাখলে হার্ডডিক্সে যায়গা রক্ষা করা সহ গতিও বৃদ্ধি পাবে। সিস্টেম রিষ্টোর বন্ধ করতে Control Panel থেকে System ওপেন করুন। এবার System Properties থেকে System Restore ট্যাবে ক্লিক করে Turn off System Restore on all drives চেক বক্স সিলেক্ট করে Ok করুন, তাহলে সকল ড্রাইভের সিস্টেম রিষ্টোর বন্ধ হবে। এছাড়া চাইলে ড্রাইভ বিশেষ যায়গা কমাতে বা নির্দৃষ্ট ড্রাইভের সিস্টেম রিষ্টোর বন্ধ করতে পারবেন। এজন্য Turn off System Restore on all drives চেক বক্স সিলেক্ট না করে পছন্দের ড্রাইভটি সিলেক্ট করে পাশের Settings বাটনে ক্লিক করে Turn off System Restore on this drives চেক বক্স সিলেক্ট করে উক্ত ড্রাইভের রিষ্টোর বন্ধ করুন বা নিচ থেকে ডিক্স স্পেস পরিবর্তন করুন।
হাইবারনেট বন্ধ করা: উইন্ডোজ এক্সপির বাড়তি সুবিধাগুলোর মধ্যে হাইবারনেট অন্যতম। হাইবারনেটের সুবিধা হচ্ছে সিস্টেম (কম্পিউটার) বন্ধ না করে হাইবারনেট করলে চলতি সব প্রোগ্রামই পরবর্তীতে সিস্টেম ওপেন করার সময় আবার পূর্বের অবস্থা থেকে চালু হবে। কিন্তু হাইবারনেটের ফলে সিস্টেমের অনেক যায়গা ব্যবহৃত হয় যা উইন্ডোজের গতি কমের আরেকটা কারণ। আপনি যদি হাইবারনেট বন্ধ করে রাখেন তাহলে যায়গা ও গতি উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। এজন্য Control Panel থেকে Power Options ওপেন করলে Power Options Properties আসবে এখান থেকে Hibernate ট্যাবে ক্লিক করে Enable Hibernate চেক বক্স আনচেক করে Ok করুন।
অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম বন্ধ রাখা: উইন্ডোজ খোলার সময় স্টার্টআপ থেকে অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম খোলে, যার অনেক গুলোই আপনার প্রয়োজন হয় না। এসব প্রোগ্রাম কম্পিউটারের র্যাম ও প্রসেসর উভয়ই ব্যবহার করে। যেমন আপনার কম্পিউটারে বিজয় সেটআপ দেওয়া আছে, আপনি কি প্রতিদিন বিজয় ব্যবহার করে থাকেন? যদি তা না করেন তহালে প্রতিবার সিস্টেম চালু হবার সময় কেন উক্ত প্রোগ্রামটি ওপেন হবে। এক্ষেত্রে তা স্টার্টআপ থেকে বাদ দিলে আর সিস্টেম চালু হবার সময় তা খুলবে না কিন্তু প্রয়োজনে মেনুয়াল ভাবে তা খুলে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও অনান্য অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম বন্ধ করতে স্টার্ট মেনু থেকে (Start + R চেপে) রান ক্লিক করে ওপেন করুন। এবার msconfig টাইপ করে Ok করলে System Configuration Utility ওপেন হবে এখান থেকে Startup ট্যাবে গিয়ে Startup Item থেকে অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো আনচেক করে Ok করুন, তাহলে সিস্টেম রিস্টার্টের ডায়ালগ বক্স আসবে এখান থেকে রিস্টার্ট করে বা না করেই বের হয়ে আসতে পারেন। পরবর্তীতে সিস্টেম চালু হবার সময় দেখবেন উক্ত প্রোগ্রাম ওপেন হচ্ছে না, ফলে আপনার কম্পিউটারের গতি বাড়বে।
এছাড়া ডেক্সটপে কোন ওয়ালপেপার না রাখা বা স্ক্রিনসেভার ব্যবহার না করাই ভালো এবং স্টার্ট মেনু ও প্রোগাম মেনু থেকে অতিরিক্ত প্রোগ্রামে শর্টকাট মুছে ফেলুন। আর ডেক্সটপে প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামের শর্টকার্ট ছাড়া কোন ফাইল রাখবেন না। সম্ভব হলে উইন্ডোজ অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম সেটআপ দেয়া থেকে বিরত থাকুন এবং এ্যাড রিমুভ প্রোগ্রামস্ থেকে উইন্ডোজের অতিরিক্ত কম্পোনেন্ট বাদ দিন। এছাড়াও প্রতি সাত দিন অন্তর ডিক্স ক্লিন আপ এবং পনের দিন অন্তর ডিক্স ডিফ্রাগমেন্টার করুন।

Advertisements

One Response to “উইন্ডোজ এক্সপির গতি বৃদ্ধি”

  1. আড্ডা ব্লগ Says:

    প্রযুক্তি জগতের খবরাখবর…

    I found your entry interesting thus I’ve added a Trackback to it on my weblog :)…


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: