কর চুরির নেপথ্যে

আপনি কর ফাঁকির সাথে হইতো বেশ পরিচিত। কিন্তু কর চুরি কথা হয়তো কখনো শোনেননি। আপনি যদি সরকার নিকট পরিশোধযোগ্য কর পরিশোধ না করেন সেটা হচ্ছে কর ফাঁকি দেওয়া। কিন্তু আপনি আপনার কর ঠিকমত পরিশোধ করলেন কিন্তু যার মাধ্যমে পরিশোধ করলেন তারা/সেই প্রতিষ্ঠান আপনার প্রদেয় কর/ভ্যাট সরকারী খাতে জমা দিলো না বা কম দিলো তাহলে সেটা কর/ভ্যাট চুরি করা হলো। এটা হয় মূলত মূল্য সংযোজন করের ক্ষেত্রে যাকে আমরা ভ্যাট হিসাবে ভাল চিনি। একটি উদাহারণ দিলে আরো পরিস্কার বোঝা যাবে। ধরুন আপনি মেহেদী ফার্নিচার থেকে কোন একটা পণ্য (চেয়ার) কিনলেন ১০,০০০ টাকার বিনিময়ে। যেহেতু এটা ভ্যাটসহ সুতারাং আপনার কেনা এই চেয়ারের প্রকৃত মূল্য ৯৫৬৯ এবং সরকারের ধার্যকৃত ভ্যাট হচ্ছে ৪৩১ টাকাসহ মোট ১০,০০০ টাকা। অর্থাৎ ৬ শতাংশ ভ্যাট (৪৩১ টাকা) আপনি মেহেদী ফার্নিচারের মাধ্যমে সরকারকে দিলেন। কিন্তু মেহেদী ফার্নিচার সরকারকে আপনার দেওয়া ভ্যাট দিচ্ছে কিনা তা কি আপনি দেখছেন বা যাচায় করছেন? একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আপনার দায়িক্ত হচ্ছে ভ্যাটের কাগজ বুঝে নেওয়া, কিন্তু আপনি ভ্যাট পরিশোধ করার পরেও তা না নিয়ে মেহেদী ফার্নিচারকে ভ্যাট চুরি করার সুযোগ করে দিলেন। এখন উক্ত মেহেদী ফার্নিচার যদি সরকারকে আপনার পরিশোধকৃত ভ্যাট না দেয় বা কম দেয় তাহলে সেটুকই হলো ভ্যাট চুরি বলা যায়। আমাদের দেশে বেশীরভাগ প্রতিষ্ঠান এমনটি করে থাকে যা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরা সাধারণ নাগরিক কিন্তু সর্বক্ষেত্রে আমাদের ভ্যাট পরিশোধ করছি কিন্তু সরকার তার প্রাপ্যের শতকরা ২০ ভাগও পাচ্ছে না। এটাতো বললাম ফার্নিচার তৈরী কোম্পানীর কথা। এভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উপরে ভিন্ন ভিন্ন রকমের ভ্যাট ধার্য করা আছে যা সম্পর্কে আমরা খুব একটা অবহিত নয়। সরকারও এব্যাপারে জনসচেতনতা তৈরী করতে ব্যার্থ হয়েছে বা উদ্দ্যোগ নেইনি। সরকার যদি তার প্রাপ্য রাজস্বের সবটুক পেত তাহলে বিদেশী সাহায্যের প্রয়োজন হতো না এনবিআর চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণভাবে একমত। এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে আরো অধিক সচেতন হতে হবে কারণ আমি-আপনিতো ঠিকই ভ্যাট পরিশোধ করছি।
এখন দেখা যাক কিভাবে ভ্যাট চুরি হয়: বেশীর ভাগ ভ্যাট চুরি হয় পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে। অর্থাৎ আপনার কেনা চেয়ারের (পণ্যের) মূল্য যদি ২০০০ টাকা দেখানো হয় তাহলে সরকারকে ৮৬ টাকা ভ্যাট দিলেই হচ্ছে। অনেক সময় আপনার কাছে বিক্রিত পণ্যের কোন ভ্যাটই সরকারকে দেওয়া হচ্ছে না। আর এসকলের চুরির সাথে ভ্যাট আদায় সংক্রান্ত সরকারী কর্মকর্তারা (কাষ্টমস্‌ বা অনান্য) সুস্পষ্টভাবে জড়িত। এধরনের চুরির ব্যাপারে তারা সম্পূর্ণভাবে অবগত এবং তারা নিজেদের পকেট ভারি করে কোম্পানীগুলো ভ্যাট চুরির অবৈধ সুযোগ দিচ্ছে।
ফলে সরকার দেশ চালাতে ঋণ নিতে হচ্ছে বা নতুন নতুন রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্র খুঁজতে হচ্ছে যার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসবের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আমারদের মত সাধারণ নাগরিকের। সরকারকে আরো নতুন নতুন ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপ না করে আরোপকৃত ক্ষেত্র থেকে সঠিকভাবে সম্পূর্ণ ভ্যাট আদায় করার বিষয়ে আরো বেশী সচেষ্ট হতে হবে। এজন্য সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে যেকোন মূল্যে দূর্নীতি এবং ঘুষ থেকে দুরে রাখতে হবে। তা না হলে দেশের অর্থনীতি কখনই উন্নতি হবে না।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: